কোমরের চর্বি কমান

কোমরের চর্বি কমান

অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে শরীরের যে সব জায়গায় ফ্যাট বেশি জমে তার মধ্যে একটা হচ্ছে কোমরের দুই পাশ। মাফিন টপ বলে ইংরেজিতে একটা কথা আছে। একটা মেয়ে জিন্স বা পায়জামা পরলে, ঠিক তার উপরের অংশের ফ্যাট দেখতে অনেকটা কাগজের কোনা গুলোয় বসে থাকা মাফিন কেকের উপরের বর্ধিত অংশের মত লাগে। শুধু খেলেই যে এমন হয় তা নয়। বিয়ের পর স্বাভাবিক ভাবেই মেয়েরা একটু কম সচেতন হয়ে পরে তার ফিগারের ব্যাপারে। অথচ এই সময়েই সবচেয়ে বেশি এই সমস্যায় ভোগে। আবার বাচ্চা হওয়ার পর বিভিন্ন হরমোনাল চেঞ্জ এর কারণে মেয়েদের মোটা হওয়ার হার আরও বেড়ে যায়

তিনটি এক্সারসাইজ আপনার পেটের মেদ কমিয়ে দিতে পারে অনেকখানি, যা খুব সহজ এবং কম সময়সাপেক্ষ। গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা: মনোয়ারা সুলতানা বলেন, আপনি ঘুমানোর আগে, রান্নার ফাঁকে ফাঁকে, বিকাল বেলা, সকাল বেলা যেকোনো সময় এক্সারসাইজ করতে পারেন। এতে আপনার কোন যন্ত্রপাতিরও প্রয়োজন নেই। এই এক্সারসাইজ গুলোতে সরাসরি কোমরের মাংস ও চর্বির উপর প্রেসার পড়ে ও ফ্যাট বার্ন হয়। তাই আসুন দেখে নেয়া যাক কিভাবে কমাবেন পেটের মেদ —

সাইড বেন্ডস: দুই পা ফাঁকা করে দাঁড়ান। হাত দুই পাশে ঝুলে থাকবে। এক সাইডের হাত নীচে দিয়ে সেই দিকেরই পায়ের আঙুল ছোঁয়ার চেষ্টা করতে হবে, এর সাথে সাথে অপর হাত উপরে তুলে কোমরের উপর আনতে হবে। একই ভাবে আরেক সাইডের হাত সেই দিকের পায়ের আঙুল ধরার চেষ্টা করা অবস্থায় অপর সাইডের হাত কোমরে উঠে আসবে। এভাবে ১০ মিনিট করুন অথবা ১০০ বার রিপিট করুন।
স্ট্যান্ডিং টুইস্ট: মাথার পেছনে হাত রাখুন, হাঁটু সামান্য ভাঁজ করে রাখুন এবং কনুই যেন প্রসারিত থাকে। এখন কোমর না নাড়িয়ে শরীর টুইস্ট করুন অর্থাৎ বাঁকান। একবার ডানে, একবার বামে। এভাবে একশ বার করে প্রতিদিন ২ /৩ বার করুন। এতে কোমরের উপরের ফ্যাট সহজে বার্ন হবে।

জ্যাক নাইভস: পা টান টান করে ও হাত সোজা করে ছড়িয়ে রাখতে হবে। পায়ের আঙুল সিলিং বরাবর দিয়ে ফ্লোর বা বেঞ্চে শুয়ে পড়–ন। এবার হাত টান টান করে পায়ের আঙুলের দিকে ধরুন। মনে রাখতে হবে পা যেন ৪৫ বা ৯০ ডিগ্রী কোণে থাকে। কাঁধ ফ্লোর থেকে একটু উপরে উঠে থাকবে। হাতের আঙুল গুলো পায়ের আঙুলের কাছাকাছি আনার চেষ্টা করতে হবে যেন আঙ্গুল নাভির ঠিক উপর বরাবর থাকে। আপনার শরীর দেখতে জ্যাক নাইফ এর মত লাগবে। তারপর আবার আগের মত হাত পা টান টান করে মেঝেতে শুয়ে পড়–ন। এভাবে ৫-১০ মিনিট করে দিনে দুই থেকে তিন বার করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

ডা: মনোয়ারা সুলতানা বলেন, আরেকটা কথা বলতে চাই, সেটি হল খাবার নিয়ন্ত্রণ করা খুব জরুরী। আঁশ জাতীয় খাবার খান। ফলমূল ও শাকসবজি বেশি করে খান। পানি শরীরের যে কোন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় একটি অপরিহার্য অংশ। সুন্দর স্লিম ফিগার কার না ভালো লাগে ? শুধু ভালো লাগার ব্যাপার ছাড়াও, স্থূল শরীরে অসুখ বেশি দানা বাঁধে এটাও সবাই জানে। এছাড়াও মনে রাখবেন হার্টের সমস্যার একটি বড় রিস্ক ফ্যাক্টর হচ্ছে স্থূলতা।

  • Default
  • Facebook

Leave a Reply

You must be logged in to post a comment.